দৃষ্টিকোণ (Perspective)

আঁকাআঁকি করতে গেলে সবচেয়ে বেশি খেয়াল রাখতে হয় যে কয়েকটা ব্যাপারে, তার মধ্যে একটা হল ‘দৃষ্টিকোণ’ (Perspective)। ধরা যাক, তুমি কমলাপুর রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছো, ট্রেন আসবে আরো এক ঘন্টা পর। সেই ফাঁকে তুমি কমলাপুর রেল স্টেশনের ভেতরের দৃশ্যটার স্কেচ করতে চাও। তুমি জানো, ‘রেল লাইন বহে সমান্তরাল’, অর্থাৎ রেল লাইনের দুই প্রান্ত কোনদিন একসাথে মিলে যায় না। কিন্তু আঁকতে গিয়ে দেখলে অনেক দূরে কোথায় যেন রেল লাইনের দুই প্রান্ত একটা বিন্দুতে মিলে গেছে। প্ল্যাটফর্মের লম্বা লম্বা থামগুলোর সাইজ একই রকম হলেও কাছের থামগুলোকে বড় আর লম্বা মনে হচ্ছে, দূরের থামগুলো ধীরে ধীরে যেন বেটে আর ছোট হয়ে আসছে। এই ব্যাপারটাকেই বলে দৃষ্টিকোণ। দূরের জিনিসগুলো ছোট হতে হতে যে বিন্দুতে মিলিত হয়, সেই বিন্দুকে বলে অদৃশ্য বিন্দু (Vanishing Point)। আমি কোথায় দাঁড়িয়ে আছি তার উপর নির্ভর করে অদৃশ্য বিন্দু কয়টা তৈরি হবে, একটা, দুটো না তিনটা? অদৃশ্য বিন্দু একটা হলে সেই দৃষ্টিকোণের নাম একবিন্দু দৃষ্টিকোণ (1- Point Perspective)। এরকম আরো আছে- দুইবিন্দু ও তিনবিন্দু দৃষ্টিকোণ।

রেল লাইনের সামনে দাঁড়ালে যে রেল লাইনের দুই প্রান্ত দূরে এক বিন্দুতে মিলে গেছে বলে মনে হয়, এরকম দৃষ্টিকোণকে বলে একবিন্দু দৃষ্টিকোণ। লিওনার্দো দ্য ভিনচির বিখ্যাত চিত্রকর্ম দ্য লাস্ট সাপারে এই দৃষ্টিকোণ ব্যবহার করা হয়েছে।

আমি যদি একটা বাড়ির কোণায় গিয়ে দাঁড়াই, দেখব যে দুটো দেয়াল দুইপাশে দুই অদৃশ্য বিন্দু তৈরি করেছে। একেই বলে দুইবিন্দু দৃষ্টিকোণ।

 

 

 

আবার আমি যদি ব্যাটম্যানের মত কোন উঁচু দালানের ছাদে গিয়ে শহরটাকে দেখি, তাহলে অন্য বাড়িগুলোর ছাদ আর দুই দেয়াল দেখব, প্রতিটা বাড়িতে তিনটি করে অদৃশ্যবিন্দু তৈরি হবে। এর নামই তিনবিন্দু দৃষ্টিকোণ।

 

 

 

admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *